পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করলেও, এর মধ্যেই শ্রমিক আন্দোলনের নাম করে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে এমন শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, যারা শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছেন এবং দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই— যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়, তাদের জীবনমানের উন্নতি হয় এবং তাদের সমস্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে সেই বিষয়টাও নির্ধারিত হয়।”।
সম্প্রতি সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ এবং অগ্নিসংযোগের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে বেশ কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের সহিংস কর্মকাণ্ডের সচিত্র প্রমাণাদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে। অডিও আছে, ভিডিও আছে এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সচিত্র ভিডিও ক্লিপ আছে, আপনাদের কাছেও আছে।”।
পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে এবং খুব দ্রুতই বোর্ড মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করবে। আশা করা হচ্ছে, আজই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা সেই বছরের ডিসেম্বরে কার্যকর হয়। সে হিসেবে বর্তমান মজুরি কাঠামোর মেয়াদ আগামী মাসেই শেষ হচ্ছে। গত বছর শ্রমিকদের মজুরি ৮ হাজার থেকে ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সময়রেখা ডিসেম্বর পর্যন্ত এমনিতেই আছে তিন বছর পূর্ণ হতে। অথবা সম্ভাব্য খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন।
মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার কাজ করলেও একটি পক্ষ অস্থিরতা ছড়াতে তৎপর বলে মনে করেন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, বিগত কিছুদিন যাবৎ একটি পতিত স্বৈরাচারের, ফ্যাসিবাদের সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিক ভাই-বোনদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সহিংসতাগুলোর পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এর পেছনে কিছু মিল মালিকের সংশ্লিষ্টতা এবং শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে বিতর্কিত কিছু ব্যক্তির ইন্ধন থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নেই, বরং পতিত রাজনৈতিক শক্তির মদদপুষ্টরা শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
শিল্প কারখানা বন্ধের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু কারখানা রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া বা আর্থিক সংকটের কারণে বন্ধ থাকতে পারে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে গাজীপুর ও কালিয়াকৈরের কিছু কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও সেগুলো সোমবার থেকে পুনরায় চালু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো শিল্পের উৎপাদন সচল রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান রক্ষা করা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং বিকাল ৩টায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।





