১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

প্রকাশ:

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের নীতিনির্ধারকদের সাথে বৈঠক করতে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এই সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করছেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্যমতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা নতুন করে গতিশীল করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। চিঠিটি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসিন রেজাইয়ের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এই চিঠিতে কোনো সরাসরি শর্তের পরিবর্তে ভবিষ্যতে আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতায় এই বিশেষ বার্তাটি মহসিন রেজাইয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকেই কাতার ও পাকিস্তান শান্তি প্রক্রিয়া বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় গত রবিবারও কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার মস্কোয় বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

তীব্র অস্থিরতা নিরসনে শুধু কাতার নয়, এই সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও তেহরান সফর করেছেন। আগস্টে মক্কায় স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপটে এই দেশগুলোর এমন তৎপরতা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এখনো জটিল। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক সংকটের মুখে রয়েছে।

তেহরান এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে। তাদের দাবি, বিশ্ববাজারের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে হলে ওয়াশিংটনকে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জাতীয় সম্পদ অবমুক্ত করা, তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং দেশটির বন্দরগুলোতে আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা।

শেয়ার করুন