বিশ্বজুড়ে আজ ৩১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শহর দিবস ২০২৬’। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য উপযুক্ত আবাসন”। এই বিশেষ দিনে কাতার গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ (আশগাল) আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার লক্ষ্যে তাদের নতুন মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেছে।
দ্রুত নগরায়ণ ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন আবাসন এলাকায় নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আশগাল।
সংস্থাটির প্রজেক্ট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর প্রকৌশলী খালিদ সাইফ আল-খায়ারীন কাতার নিউজ এজেন্সিকে জানান, বর্তমানে আল ইব, আল সুমামা, আল ওয়াব, আল মেশাফ, আল মামুরা, ওয়েস্ট উম্মে সালাল, আল খারাইতিয়াত ও রওজাত আল হামামাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পাবলিক সার্ভিস আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে।
টেকসই উন্নয়নে আশগালের মূল ক্ষেত্রসমূহ
- স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: অবকাঠামো প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ সামগ্রী দেশীয় উৎস থেকে সংগৃহীত হচ্ছে, যা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
- পুনর্ব্যবহার ও সৌরশক্তি: নির্মাণ কাজে কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট রিসাইকেল করা হচ্ছে এবং প্রজেক্ট সাইটগুলোতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।
- পানি ব্যবস্থাপনা: ড্রেনেজ ও পাম্পিং স্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন সহজ করা এবং ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত পানির পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
- নিরাপদ চলাচল: নাগরিকদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় এলাকাগুলোতে হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক এবং সবুজ পার্ক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রা
‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য অর্জনে আশগাল আগামী পাঁচ বছরে আরও বিস্তৃত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
এই মহাপরিকল্পনার আওতায় ৩৩ হাজার আবাসিক প্লটে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা ও সংযোগ সড়ক নিশ্চিত করতে ৩০টিরও বেশি মেগা রোড ও অবকাঠামো প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হবে। এছাড়া নির্ভুল নগর পরিকল্পনা ও কাজের গতি বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৫ বছরের মহাপরিকল্পনার আওতায় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৩৩, ০০০ আবাসিক প্লটে সুনির্দিষ্ট নাগরিক সুবিধা ও সংযোগ সড়ক নিশ্চিত করতে ৩০টিরও বেশি মেগা রোড ও অবকাঠামো প্রজেক্টের দরপত্র (Tender) আহ্বান করা হবে।





