মাল্টায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা ও রেস্তোরাঁ মালিক ৪০ বছর বয়সী নাজমুল ইসতিয়াককে মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দেশটির মেলিয়েহাতে ‘পিংক গার্লিক’ নামের একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশটির আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে পাঁচজনকে অবৈধভাবে পাচার ও শোষণের শিকার করেছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টাইমস অব মাল্টার অনলাইন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর বুধবার তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।
পুলিশি তদন্তের সূত্রপাত হয় এক ভুক্তভোগী বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে। ওই ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছেন, নাজমুল তাকে বৈধ চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মাল্টায় নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে বিনা পারিশ্রমিকে ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করতে বাধ্য করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শোষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই কর্মীকে বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছিলেন অভিযুক্ত। পরে ভুক্তভোগী দেখতে পান যে, তাকে দিয়ে এমন নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছে যেখানে উল্লেখ রয়েছে তিনি স্বেচ্ছায় তিন মাস বিনা বেতনে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।
পরবর্তী তদন্তে পুলিশ আরও চারজন ভুক্তভোগীর সন্ধান পায়, যারা একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, নাজমুল তাদের নিয়মিত হুমকি দিতেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে তাদের মাল্টা থেকে বহিষ্কার করা হবে। পুলিশের ধারণা, ভয়ে আরও অনেক ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গিয়ে থাকতে পারেন। প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর নাজমুলের রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় অসুস্থতা বোধ করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসার পর বুধবারই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তারাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এরপর সরাসরি তাকে আদালতে নেয়া হয়েছে।
আদালতের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, জামিনে মুক্তি পেলে অভিযুক্ত সাক্ষীদের প্রভাবিত বা ভয়ভীতি দেখাতে পারেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ ইলেকট্রনিক নজরদারি বা কঠোর সুরক্ষা শর্তে জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। জামিন আবেদন খারিজ করে নাজমুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।





