১৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিল দলে আনচেলত্তির নতুন চমক, ডাক পেলেন পাঁচ তরুণ

প্রকাশ:

ব্রাজিল ফুটবলে এখন নতুন প্রজন্ম তৈরির জোরালো কার্যক্রম চলছে। বিশ্বকাপের ব্যর্থতাকে ঝেড়ে ফেলে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছেন। ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এক ঘোষণার মাধ্যমে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড প্রকাশ করেছেন তিনি। এই দলে যেমন অভিজ্ঞতার মিশেল আছে, তেমনি তরুণ প্রতিভার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তালিকায় প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার সুযোগ পেয়েছেন পাঁচজন নতুন মুখ। এরা হলেন আন্দ্রে লুইজ, জোনাথন জেসুস, অ্যালান, মারলন গোমেস এবং আলিসন সান্তানা। সব মিলিয়ে ২৩ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়ের সংখ্যা ১৫ জন, যা দলের ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা জানান দিচ্ছে। ক্রুজেইরোর রক্ষণভাগের খেলোয়াড় জোনাথন জেসুসও পেয়েছেন নিজের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ। পেলে থেকে রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনিয়ো থেকে নেইমার—প্রতিটি যুগে নতুন তারকারা নিজেদের যোগ্যতায় জাতীয় দলের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।

আনচেলত্তির ঘোষিত দলে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এন্দ্রিক, বার্সেলোনার রাফিনিয়া, চেলসির এস্তেভাও এবং ম্যানচেস্টার সিটির অ্যালানের মতো তারকাদের রাখা হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা তরুণদের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ—প্রতিটি স্তরেই ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছেন কোচ। সুযোগ পেলে কে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটিই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য আরও বড় দরজা খুলবে কি না। তারুণ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য: ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নতুন প্রজন্মের উত্থান সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিভা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে করিন্থিয়ান্সের আন্দ্রে লুইজ এবং ক্রুজেইরোর জোনাথন জেসুসকে ডাকা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় লিগে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টায় থাকা অ্যালান, মারলন গোমেস ও আলিসন সান্তানার জন্য এই ডাক ক্যারিয়ারের নতুন মোড় হতে পারে। এখন তাদের সামনে প্রধান কাজ হলো আন্তর্জাতিক ফুটবলের উচ্চ গতি ও চাপ সামলে নিজেদের দক্ষতা ফুটিয়ে তোলা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গতি, প্রতিপক্ষের চাপ এবং কোচের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই হবে তাঁদের পরবর্তী পরীক্ষা। এ সিদ্ধান্তের ফলে কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

আনচেলত্তির এই কৌশলে প্রতিষ্ঠিত তারকাদের পাশে এন্দ্রিক, এস্তেভাও ও রায়ানের মতো তরুণদের উপস্থিতি ব্রাজিলের বিকল্প খেলোয়াড় তৈরির ভিত মজবুত করছে। তবে তরুণদের নিয়মিত সুযোগ দেওয়া এবং সঠিক সমন্বয় গড়ে তোলা এখন কোচিং প্যানেলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

দল নির্বাচনে কিছু ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। ফ্লামেঙ্গো ও পালমেইরাসের মতো শীর্ষ ঘরোয়া ক্লাবের খেলোয়াড়দের রাখা হয়নি। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ঘরোয়া লিগের শেষ মুহূর্তের গুরুত্ব বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ঘরোয়া ক্লাব থেকে সাধারণভাবে একজন করে খেলোয়াড় নেওয়ার নীতিও অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

২৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দল: গোলরক্ষক হিসেবে আছেন বেন্তো, লুকাস পেরি ও পেদ্রো মরিস্কো।

রক্ষণভাগে ডাক পেয়েছেন আর্থুর দিয়াস, কার্লোস অগুস্তো, দগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, জাইর কুনিয়া, জোনাথন জেসুস, ভান্দেরসন, ভিতর রেইস ও ওয়েসলি। মাঝমাঠে দায়িত্ব সামলাবেন আন্দ্রে লুইজ, আন্দ্রে সান্তোস, ব্রুনো গিমারায়েস, দানিলো সান্তোস, গাব্রিয়েল বন্তেম্পো, জোয়াও গোমেস ও মারলন গোমেস। আক্রমণভাগে সুযোগ পেয়েছেন আলিসন সান্তানা, অ্যালান, এন্দ্রিক, এস্তেভাও, রাফিনিয়া, রায়ান ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

আগামী ১৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। এরপর ১৭ নভেম্বর একই ভেন্যুতে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক সিঙ্গাপুর। এই দুটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সূচি শেষ করবে ব্রাজিল।

ম্যাচ দুটিতে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, বরং নতুন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা হবে আসল লক্ষ্য। আনচেলত্তি কীভাবে তরুণদের ব্যবহার করেন এবং প্রতিষ্ঠিত তারকাদের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া কেমন হয়—সেই দিকেই নজর থাকবে সারা বিশ্বের ব্রাজিল ভক্তদের। এই দল ঘোষণায় তাই দুটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ছে—একদিকে প্রতিষ্ঠিত তারকাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা, অন্যদিকে আগামী দিনের জন্য নতুন খেলোয়াড়দের যাচাই করা।

বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য এবারের দল গঠনটি বেশ কৌতুহলোদ্দীপক। পরিচিত তারকাদের পাশাপাশি উঠতি তরুণদের আন্তর্জাতিক অভিষেক দেখার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। আজকের এই তরুণরাই ভবিষ্যতের সেলেসাওদের নেতৃত্বে উঠে আসার পথে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন