৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৭৯ কোটি

প্রকাশ:

বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত।

বিশ্বজুড়ে নিয়মিত এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫৭৯ কোটিতে পৌঁছেছে। ফোর্বস অ্যাডভাইজারের একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন ব্যবহারকারী গড়ে প্রতি মাসে ছয়টির বেশি ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। নিয়মিত এসব মাধ্যমে সময় কাটানোর হারও বেশ বেশি; একজন ব্যক্তি সপ্তাহে গড়ে ১৮ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট ব্যয় করেন। সহজ হিসাবে, দৈনিক গড়ে প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট সময় চলে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বব্যাপী এই সময়কে একত্র করলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ বিলিয়ন ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে কেবল এসব প্ল্যাটফর্মে। মার্কিন সাময়িকী ‘ফোর্বস’–এর ব্যবসা ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘ফোর্বস অ্যাডভাইজার’-এর এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এই ব্যয় করা সময়কে একত্র করলে দেখা যায়, প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই চলে যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ কোটি (১৫ বিলিয়ন) ঘণ্টার বেশি সময়।

প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে মেটা এখনো শীর্ষে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ কোটিতে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, স্ন্যাপচ্যাটও বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক নাগাদ প্ল্যাটফর্মটির দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৮ কোটি ৩০ লাখে, যা বার্ষিক ভিত্তিতে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সময়ে স্ন্যাপচ্যাটের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ কোটি ৬০ লাখে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বিনোদন ও কনটেন্ট পাওয়ার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শো, শিল্পী বা কনটেন্টের ভক্তদের ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন, নতুন কোনো টিভি শো, সিনেমা, গান, গেম বা ইভেন্ট সম্পর্কে জানার জন্য তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জির ক্ষেত্রে এই হার অনেক বেশি—প্রায় ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন যেকোনো কিছুর খোঁজে তাদের প্রথম গন্তব্যই এখন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো। বিনোদন ও কনটেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষের নির্ভরতা দ্রুত পাল্টাচ্ছে।

কনটেন্ট বা পণ্য সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনপ্রিয় হলেও, কেনাকাটা বা মূল কনটেন্ট দেখার ক্ষেত্রে মানুষ অন্য পথে হাঁটছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব প্ল্যাটফর্মে কোনো পণ্যের সন্ধান পাওয়ার পর প্রায় ৪৪ শতাংশ ব্যবহারকারী সেটি সরাসরি কেনার জন্য বা বিস্তারিত দেখার জন্য অন্য প্ল্যাটফর্মে, বিশেষ করে সেই পণ্যের নিজস্ব ওয়েবসাইটে চলে যান। জেন-জির ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট, যাদের প্রায় ৬০ শতাংশই মূল কেনাকাটার জন্য প্ল্যাটফর্মের বাইরে চলে যান। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা বাড়লেও, সেই আগ্রহকে সরাসরি বিক্রিতে রূপান্তর করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিষয় পছন্দ হলেও কেনাকাটা বা দেখার জন্য দর্শক পুরোপুরি সেখানে সীমাবদ্ধ থাকছেন না।

শেয়ার করুন