১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপমৃত্যু মামলায় রেহাই পেলেন রাহুল

প্রকাশ:

হিন্দি টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় মুখ, ‘বালিকা বধূ’ ধারাবাহিকের ‘আনন্দী’ চরিত্র খ্যাত অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর দীর্ঘ ১০ বছর পর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। প্রত্যুষাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগের মামলা থেকে তাঁর প্রেমিক, অভিনেতা ও প্রযোজক রাহুল রাজ সিংকে অব্যাহতি দিয়েছেন মুম্বাই হাইকোর্ট। গত বুধবার আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি জটিল মামলার অন্যতম প্রধান অধ্যায়ের অবসান ঘটল। অল্প সময়ের মধ্যেই হিন্দি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন প্রত্যুষা।

২০১৬ সালের ১ এপ্রিল মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও পশ্চিম এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মাত্র ২৪ বছর বয়সী প্রত্যুষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করার পর, তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমিক রাহুলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। প্রত্যুষার বাবা-মায়ের দাবি ছিল, রাহুল তাঁদের মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন এবং সেই চরম মানসিক চাপের কারণেই প্রত্যুষা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন।

তবে মুম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি এস জি ডিজে মামলার নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে জানান, রাহুলের বিরুদ্ধে এই বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। আদালতে রাহুলের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যুষার কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং ঘটনার পর অতি দ্রুততায় মামলাটির এফআইআর করা হয়েছিল। আদালত সবদিক বিবেচনা করে রাহুলকে এ মামলা থেকে মুক্তি দেন।

তাছাড়া, মৃত্যুর পূর্বে প্রত্যুষা ও রাহুলের মধ্যকার শেষ কথোপকথনটিও খতিয়ে দেখেছেন আদালত। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, ওই ফোনালাপ থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যেখানে রাহুল প্রত্যুষাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। উল্টো কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রত্যুষা যাতে ক্ষতিকর কোনো পদক্ষেপ না নেন, সেজন্য রাহুল তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এই একটি চরিত্রই তাঁকে ভারতজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়।

জামশেদপুরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১০ সালে ‘বালিকা বধূ’ নাটকে আনন্দীর ভূমিকায় অভিনয় করে ভারতের ঘরে ঘরে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি ‘বিগ বস ৭’, ‘ঝলক দিখলা জা’, ‘হাম হ্যায় না’ সহ বেশ কিছু রিয়েলিটি শো ও নাটকে কাজ করে হিন্দি বিনোদন জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সবকিছু ওলটপালট করে দেয়। ২০১০ সালে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূ’তে আনন্দীর চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে জামশেদপুরে থাকা প্রত্যুষার বাবা শংকর বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা শুরু থেকেই এই মৃত্যুর জন্য রাহুলকে দায়ী করে আসছেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে তাঁদের সমস্ত সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে এবং মামলার খরচ মেটাতে প্রচুর ঋণও করতে হয়েছে। বর্তমানে সোমা একটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে কাজ করছেন এবং শংকর লেখালেখির মাধ্যমে যৎসামান্য আয়ের চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটলেও মেয়ের মৃত্যুর শূন্যতা ও ধকল কাটিয়ে এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি এই দম্পতি। বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে সম্পর্ক, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল নিধির জীবনে। বদলে যায় জামশেদপুরে থাকা তাঁর মা–বাবার জীবনও।

শেয়ার করুন