১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমলো ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা

প্রকাশ:

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এবার প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা। শনিবার সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্য তালিকা প্রকাশ করে, যা এদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম হ্রাস পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস।

বিভিন্ন মানের স্বর্ণের নতুন দর

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই সব দামের সঙ্গেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, অলঙ্কার বিক্রির সময় ডিজাইন ভেদে মজুরি প্রযোজ্য হবে। যেহেতু বিক্রয়মূল্যের সঙ্গেই ভ্যাট যুক্ত আছে, তাই ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদা করে কোনো ভ্যাট নেওয়া যাবে না। আজ রোববারও সমন্বিত সেই দামেই বিক্রি হবে স্বর্ণ।

পদ্ধতি ও ব্যবসায়িক নির্দেশনা

  • অলঙ্কার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ কর্তন করতে হবে।
  • পুরানো অলঙ্কার পারচেজের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১৮ শতাংশ কর্তন করতে হবে।
  • উল্লিখিত ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ অক্টোবর ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস।

অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কে দাম কমল মূল্যবান এই ধাতুর। এদিকে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১৩০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৬২ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৬৭ বার কমানো হয়েছে, পাশাপাশি একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছিল। এর বিপরীতে, গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানোর ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় বাজারের অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে এই ঘনঘন পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন