ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তিনি থানায় উপস্থিত হয়ে ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে, অর্থাৎ রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করে এসব অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ওসিকে উদ্দেশ করে রুমিন ফারহানা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনি একসময় বড় ধরনের আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচিতে রুমিন ফারহানার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে এই পরিস্থিতির সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া তার নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা করেননি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়েই সংসদ সদস্য থানায় যান। এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা একজন ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ওসি বলেন, রুমিন ফারহানা শত শত মানুষ নিয়ে থানায় এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এমপি সাহেব তাকে বলেছেন তিনি ইটভাটা থেকে অবৈধভাবে টাকা নিচ্ছেন। ওসির দাবি, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্যের জন্য পুলিশের একটি দল আলাদা করে রাখা কঠিন ছিল। জবাবে রুমিন ফারহানা জানান, নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি তাকে উল্টো বলেছিলেন যে তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তাই সাধারণ মানুষই তাকে নিরাপত্তা দেবে। এর জবাবে রুমিন ফারহানা উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে বলেছেন, জনগণই তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এছাড়া সরাইল এলাকা দাঙ্গাপ্রবণ উল্লেখ করে তিনি ওসির বিরুদ্ধে মাটি কাটার কাজ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় এবং ইটভাটা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুতর অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।





