২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই ব্যবহার করে প্রাণঘাতী জীবাণু তৈরির হুমকি, সতর্ক এমআই-৫

প্রকাশ:

বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের নতুন এক ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বৃটেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫-এর প্রধান স্যার কেন ম্যাককালাম তার বার্ষিক ভাষণে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সন্ত্রাসীরা এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ড্রোন হামলার প্রস্তুতি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাটি এরই মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে, যারা এআই-নির্ভর ড্রোন ব্যবহার করে দেশটিতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ম্যাককালামের মতে, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যেভাবে দূরপাল্লার ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই কৌশলে অনুপ্রাণিত হয়ে সন্ত্রাসীরা বৃটেনে নাশকতা চালাতে পারে। এআইয়ের কারণে হামলাকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সাইবার লড়াই এখন আরও তীব্র হয়েছে। এছাড়া, ব্যক্তিদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করতে ও প্রোপাগান্ডা ছড়াতেও এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করা হচ্ছে। ইউক্রেনের যুদ্ধে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা অবস্থান থেকে বহু দূরে বসে পরিচালিত ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে। একই ধরনের প্রযুক্তি বৃটেনেও সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহৃত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ম্যাককালাম। ব্যক্তিবিশেষকে লক্ষ্য করে প্রচারণা ও উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করার উপকরণ তৈরিতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব।

এমআই-৫ প্রধানের মতে, এআইয়ের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো রাসায়নিক, জৈবিক ও তেজস্ক্রিয় অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি। বিশেষ করে, আগে দেখা যায়নি এমন নতুন রোগজীবাণু তৈরিতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। যদিও বাস্তবে এখনও এমন ঘটনা ঘটেনি, তবে বিদ্যমান জৈবিক অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়িয়ে ফেলার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত ২৫ বছর ধরে আল-কায়েদার মতো বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন জৈবিক বা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেলেও সফল হয়নি। কিন্তু এখন এআইয়ের কল্যাণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক তথ্য সহজলভ্য হয়ে পড়ায় সেই সুরক্ষা দেওয়াল ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে এমআই-৫।

বিদেশের হুমকি প্রসঙ্গে ম্যাককালাম জানান, রাশিয়া এখনও বৃটেনের প্রধান আগ্রাসী শক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ক্রেমলিন নিয়মিতভাবে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভীতি প্রদর্শনের কৌশল গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ইরান এবং চীনের গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়েও গোয়েন্দা সংস্থাটি সজাগ রয়েছে। গত ১২ মাসে ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ঘটনায় ৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে বৃটেনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা সামরিক স্থাপনার মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছিল। একইসঙ্গে, চরম ডানপন্থি মতাদর্শের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গোয়েন্দারা বিষয়টিকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার ভাষায়, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ক্রেমলিন বৃটেন ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি এবং ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।

শেয়ার করুন