বৃহস্পতিবার ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বের সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসকের অভাবে মানুষ সঠিক সময়ে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তবে দেশবাসীকে সেবার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ডা. জুবাইদা রহমান আগামীর বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, এমন একটি চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় যা বিশ্বজুড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এর মাধ্যমে কোনো রোগাক্রান্ত গ্রামবাসী চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাবে না, কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা মৃত্যুবরণ করবে না এবং কোনো নবজাতক তার মায়ের কোল খালি করে চলে যাবে না।
বাংলাদেশে চিকিৎসক ও রোগীর অনুপাতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি এক হাজারে চিকিৎসকের অনুপাত মাত্র শূন্য দশমিক ৮৩। এর ফলে একজন চিকিৎসককে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ অসুস্থ মানুষের সেবা দিতে হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে এই অনুপাত আরও নাজুক এবং সরকারি চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে প্রতি ৬ হাজার ৫০০ মানুষের জন্য মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া নার্সের অনুপাত প্রতি হাজারে শূন্য দশমিক ৫৪৯, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী চিকিৎসকের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ২ দশমিক ২৮ এবং নার্সের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৪৮ হওয়ার কথা।
তরুণ চিকিৎসকদের উদ্দেশে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। তিনি তাদের মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানবিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, তারা দেশের অন্যতম মেধাবী এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন মেধার প্রমাণ দিয়েই। এই মেধার পাশাপাশি তাদের মানবিক মন থাকা প্রয়োজন, কারণ অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করার মধ্যেই একজন চিকিৎসকের আত্মতৃপ্তি, জীবনের সার্থকতা ও সফলতা নিহিত।


