ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানলের প্রকোপে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ এলাকাটি পুরোপুরি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেখানকার অনেক পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা নৌকার সাহায্য নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেছেন।
ফ্রান্সের বোর্দোর পশ্চিমে অবস্থিত জিরোন্দ অঞ্চলে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বন ও ভূমি পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। স্থানীয় প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস এই পরিস্থিতিকে ‘এক্সএক্সএল দাবানল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ জানান, ক্যাপ ফেরে থেকে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষ নৌকায় করে আর্কাশোঁ বন্দরে নিরাপদে পৌঁছেছেন। আগুনের কারণে অন্তত ৫৩টি বাড়ি ও একটি ক্যাম্পসাইট ধ্বংস হলেও দমকল বাহিনীর তৎপরতায় প্রায় ২ হাজার বাড়ি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার সকালে আরেস শহর থেকেও বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের দমকল ও উদ্ধার বিভাগের প্রধান মার্ক ভারমিউলেন জানান, দীর্ঘ খরার কারণে এবারের দাবানল ২০২২ সালের চেয়েও ভয়াবহ। রাতের বেলা আগুন প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ থেকে ১,০০০ হেক্টর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, স্পেনেও দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মাদ্রিদের আশপাশের এলাকায় ১৯ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মাদ্রিদের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো একে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তীব্র গরম ও প্রবল বাতাসের কারণে পরিস্থিতি বিপর্যয়কর হয়ে উঠেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। রাজধানীর পশ্চিমে ভিলা দেল প্রাদো ও সান মার্তিন দে ভালদেইগলেসিয়াস এলাকায় এখনো আগুন জ্বলছে। দুই দেশেই দমকলকর্মীরা দিন-রাত আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।





