আখাউড়ায় টানা বর্ষণে সবজির বাজারে অস্থিরতা, মরিচ ৩৫০ টাকা

প্রকাশ:

টানা বর্ষণ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার নেতিবাচক প্রভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কাঁচাবাজারে সব ধরনের সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। শনিবার পৌর শহরের সড়ক বাজার সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে কাঁচা মরিচের বাজারে, যা বর্তমানে প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের অন্যান্য সবজির মধ্যে শিম ৩০০-৩১০ টাকা, করলা ৯০-১০০ টাকা, টমেটো ১১০-১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১১০ টাকা, বরবটি ১০০-১১০ টাকা, লতা ৪৫-৫০ টাকা, গাজর ৯০-১০০ টাকা, কাকরোল ৮০-৮৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০-৫৫ টাকা, পটল ৬০-৬৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০-৯০ টাকা এবং মুখি ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আলু ২৮-৩০ টাকা, শসা ৩৫-৪০ টাকা, পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা, ধনিয়া পাতা ২০০-২১০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪৫-৫০ টাকা কেজি এবং লাউ প্রতি পিচ ৭০-৭৫ টাকা ও কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শুধুমাত্র পেঁপের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এর দামে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বিক্রেতারা দাবি করছেন, টানা বৃষ্টির কারণে ফসলের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বিক্রেতা আজিজ মিয়া জানান, সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে তিনি আশা করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে।

বাজারে আসা ক্রেতারা এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রবিউল আলম নামের এক ক্রেতা জানান, গত সপ্তাহে যে মরিচ ১২০ টাকায় কিনেছেন, আজ তা ৩৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। রিকশা চালক মো. রিপন বলেন, বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ ও সবজির মধ্যে যেকোনো একটি কেনা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। মো. ফজলুর রহমান ও নির্মাণ শ্রমিক রবিন মিয়ার মতো ক্রেতারা অভিযোগ করেন যে, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সবজি কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আগে যেখানে ৩-৪ রকমের সবজি কেনা হতো এখন খুবই স্বল্প পরিমাণে কেনা হচ্ছে।

শেয়ার করুন