উত্তরখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা: অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাকিরসহ ২২ জনের জামিন

প্রকাশ:

রাজধানীর উত্তরখানের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার ষ্টেশন (এসটিএস) এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাকির হোসেনসহ মোট ২২ জনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এই জামিনের আদেশ প্রদান করেন।

জামিনপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন মাসুম রহমান, লিটন, চঞ্চল মিয়া, ইসমাইল, রুহুল কুদ্দুছ ওরফে ছাদেক, রায়হান, জুয়েল, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল, সিয়ামুজ্জামান সৈকত, আসাদুজ্জামান, সৈয়দ খালেদ মনসুর, মেহেদী হাসান প্রাপ্ত, এইচ এম তারেক রাফি, নাহিদ সরকার, শিমুল মহসীন তালুকদার, লিটন তালুকদার, রাজু চৌধুরী, নূর উদ্দিন সেলিম ও তানভীর।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উত্তরখানের রাজাবাড়ী এলাকায় কাজলসহ কয়েকজনের মালিকানাধীন নেপচুন এক্সেসরিজ লিমিটেড নামে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাজল ডিএনসিসির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উথুপিয়া কনস্ট্রাকশনের সুপারভাইজার আনিসুর রহমান পলাশকে ফোন করে গালিগালাজ করেন এবং ময়লার গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ভেঙে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাজলের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়, এতে তিনজন আহত হন। দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ডিএনসিসি কর্মকর্তা আবু ইউনুছকেও মারধর করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উথুপিয়া কনস্ট্রাকশনের সুপারভাইজার আনিসুর রহমান পলাশ বাদী হয়ে ৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে উত্তরখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি করেন উত্তরখান থানার এসআই সফিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারের পর সোমবার পুলিশের কর্তব্যে বাধা দেওয়ার মামলায় ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ছামিউল হক। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন এসআই অনুপম দাস। আদালত হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ প্রদানের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম জামিন শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, নেপচুন এক্সেসরিজ লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাকির হোসেন। হামলার পর ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন।

শেয়ার করুন