গত মাসে তুরস্ক সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল সিক্রেট সার্ভিস। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারা সফরের শেষ দিনে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য ও আসন্ন হুমকির তথ্য পাওয়া যায়। এই ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্পকে গোপনে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে সরিয়ে একটি ছোট সরকারি বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত এক ব্যক্তি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের হাতে প্রস্তুতির জন্য খুব কম সময় ছিল এবং শেষ মুহূর্তে এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। ৮ই জুলাই তুরস্ক থেকে উড্ডয়নের আগে ট্রাম্প ও তার অল্প কয়েকজন সহযোগী একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে বড় নীল-সাদা এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নেমে সি-৩২এ বিমানে ওঠেন। একই সময়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউসের কর্মী এবং ১৩ জন সাংবাদিককে অন্য একটি গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়, যা মূলত একটি বিভ্রান্তিমূলক বা ডিকয় বিমান হিসেবে কাজ করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশেই তিনি এই বিমান বদল করেন এবং আঙ্কারা থেকে বৃটেনের একটি বিরতিস্থলে নিরাপদে পৌঁছান। তিনি দাবি করেন, যে বিমানে তিনি ছিলেন না, সেটিতেই সম্ভবত ঝুঁকি বেশি ছিল। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি দেননি। মিচেল ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ডগলাস বার্কি জানান, প্রচলিত রাডার-নির্দেশিত হুমকির তুলনায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এগুলো কোনো শনাক্তযোগ্য রেডিও তরঙ্গ পাঠায় না। ফলে হঠাৎ করেই যেকোনো দিক থেকে চলে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বার্কি। তিনি জানান, ইরানের এসএ-৬৭ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সংস্করণে সাধারণ রেল-লঞ্চার ব্যবহার করা হয় এবং এটি তাপ-সন্ধানী ও লেজার-নির্দেশনা-নির্ভর।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটার এক মাসেরও বেশি সময় পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। নিরাপত্তার স্বার্থে যুদ্ধক্ষেত্র বা উচ্চঝুঁকির এলাকায় সফরের সময় ট্রাম্পসহ মার্কিন প্রেসিডেন্টরা মাঝে মাঝে গোপনে ভ্রমণ করেন। তবে সাধারণত এসব সফরের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের আগেই জানানো হতো। ২০০৩ সালের থ্যাংকসগিভিংয়ের সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বাগদাদ সফরের আগেও কয়েকজন সাংবাদিককে আগাম জানানো হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, আঙ্কারায় ট্রাম্পের হোটেল ও তার অবস্থানের ৯ তলা পর্যন্ত ইরানিরা জানতে পেরেছিল। এই পুরো কৌশলের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীদের অবহিত করা হয়েছিল। ওই বিমানে আরও ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এবং আরও ৩৩৩ জন কর্মী। তবে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানটিতে তার সহযোগী ও সাংবাদিকদের রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে তাদের ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে আইনপ্রণেতা ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন।





