১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ

প্রকাশ:

সার্বিয়ায় ছাত্র ও সাধারণ মানুষের তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। গত বছরের নভেম্বরে নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সরকারি দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। ছাত্রদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গণ-আন্দোলন সরকারি চাপের মুখেও পিছু হটেনি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকে সার্বিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য রাখা ভুচিচের শাসনের বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তবে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু সার্বিয়ার ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই; গোটা পশ্চিম বলকান অঞ্চলেই এর প্রভাব পড়ছে।

তবে প্রেসিডেন্টের এই পদত্যাগকে ক্ষমতা থেকে চূড়ান্ত বিদায় হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মূলত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য আগাম সংসদীয় নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতার কেন্দ্রে ফেরার কৌশল হিসেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দীর্ঘদিনের বিক্ষোভ ও জনদাবির কাছে নতি স্বীকার করে তিনি নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছেন। আসন্ন এই নির্বাচনে ভুচিচের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নেমেছে ছাত্র ও বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত নতুন জোট ‘ছাত্রদের জয়’। তবে এটি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানো নয়, বরং ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শেয়ার করুন