হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার সকালে থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নেই। সরকারের বর্তমান মূল লক্ষ্য হলো থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালু করা এবং সেবার মান নিশ্চিত করা।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে থার্ড টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু করা হবে। শুরুতে এক বা দুটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ টার্মিনালটির দায়িত্ব সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
বর্তমানে টার্মিনালটির কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ। প্রতিদিন বিভিন্ন সিস্টেম ও মেশিনের টেস্ট-ট্রায়াল চলছে। প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে বিমানবন্দরের সক্ষমতা প্রায় চার গুণ বাড়বে এবং এটি সর্বোচ্চ ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করতে সক্ষম হবে।
জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজস্ব অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। এ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হলেও এখনো প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ বাকি রয়েছে।
যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিমান থেকে নামার পর ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নির্ধারিত সময়ে লাগেজ সরবরাহে ব্যর্থ হলে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী।





