কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী কখন কোন দেশ সফর করবেন, তা সম্পূর্ণভাবে সেই দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। এখানে অন্য কোনো পক্ষের জোরজবরদস্তির কোনো অবকাশ নেই। অথচ ভারতের সাউথ ব্লক তারেক রহমানকে ভারত নিতে রীতিমতো চাপ প্রয়োগ শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ায় ভারতীয় কূটনীতিকরা কখনো হুমকির সুরে, আবার কখনো প্রলোভন দেখানোর ছন্দে কথা বলছেন। বীণা সিক্রি, রিভা গাঙ্গুলীসহ অন্যান্য কূটনীতিকরা একই সুরে কথা বলছেন। বীণা সিক্রি তো তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য সময় বেঁধে দিয়ে একে ‘যুদ্ধ লাগানিয়া’ ভাষা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের কথা বললেও, একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সময় বেঁধে দেওয়ার মতো চরম অকূটনৈতিক ভাষা প্রয়োগ করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দিল্লি থেকে প্রকাশিত ‘দ্য ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদনে ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনিজিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তারেক রহমান ভারত না এলে সব যোগাযোগ ও সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এই সুযোগগুলো মূলত কার, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ বিগত সরকারের করা চুক্তির কারণে আদানি গ্রুপ থেকে চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর এবং তা বাতিল করলে বাংলাদেশ সরকারকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভারত থেকে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই ভারতীয় কূটনীতিকদের এই ধরণের মন্তব্য করার আগে নিজেদের আয়নায় দেখা উচিত বলে মনে করা হচ্ছে।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের প্রকৃত অস্বস্তির কারণ ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের আগস্টে মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, যা ন্যাটোর মতো একটি ইসলামি জোট হিসেবে কাজ করছে। এই চুক্তির আওতায় যেকোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। সাউথ ব্লকের ধারণা, ড. ইউনূস বাংলাদেশকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। এর পাশাপাশি তুরস্কের সহায়তায় ড্রোন উৎপাদন, সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় এবং কৌশলগত সমন্বয়ের বিষয়টি ভারতের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও তুরস্ক সফর করেছেন। এসব কারণে ভারত বাংলাদেশকে এই জোটে যোগ দেওয়া থেকে বাধা দিতে মরিয়া।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং রাশিয়ার সাথে ভারতের ঘনিষ্ঠতা ভারতকে অনেকটা কোণঠাসা করে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত চাণক্যনীতি অবলম্বন করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তারেক রহমানের সরকার খুনিদের প্রত্যর্পণের শর্ত জুড়ে দিয়ে যে স্মার্ট কূটনীতি প্রয়োগ করেছে, তা মূলত একটি কৌশলগত চাল। সাউথ ব্লক যদি তাদের চাপ প্রয়োগের মাত্রা বাড়ায়, তবে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবেই এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে। তখন সমমর্যাদা ও সমশক্তির ভিত্তিতেই ভারতকে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।





