নেপাল ও তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ ১৩০০

প্রকাশ:

নেপাল ও তিব্বতে প্রলয়ংকরী বন্যায় চোখের পলকে স্ত্রী ও সন্তানদের হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন অনেক মানুষ। এই মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই বন্যা কবলিত এলাকায় নতুন করে একটি হ্রদের সৃষ্টি হওয়ায় আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে সেখানে আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, বন্যায় নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি।

বন্যার তাণ্ডব ও স্বজন হারানোর হাহাকার সম্পর্কে চিলিমে এলাকায় একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত কমল খারেল বলেন, পুরো জায়গাটা এমনভাবে কাঁপছিল যেন বিশাল কোনো ভূমিকম্প হচ্ছে। কিন্তু যখন আমি বাইরে গেলাম, দেখলাম চারদিকে কেবল ঝড় আর প্রমত্ত জলরাশি। আমি এর আগে এত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখিনি। এমন ঢেউ কেবল সমুদ্রেই দেখা যায়। অন্যদিকে, নুয়াকোটের সোলে গ্রামের সাংবাদিক নিরাজন পৌড়েল তার বাবা-মা ও স্বজনদের খোঁজে সেখানে ছুটে গেছেন। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো খবর পাইনি। আমার ভয় হচ্ছে, হয়তো আর কোনো খবর পাবও না।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা দুর্গত এলাকায় একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে যার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে নতুন বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে। চীনের কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, সোগিয়াল ও পুরুপকিয়াংজাংবু নদীর মোহনায় সৃষ্ট একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার এই বন্যাকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে জানান, জরুরি চিকিৎসাসেবা, আশ্রয় ও পানির জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ডলারের তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা সৃজনা গুরুং বলেন, নেপাল একের পর এক জলবায়ু ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, নেপালে বন্যা এবং ভূমিধস সবসময়ই ঘটে, কিন্তু জলবায়ু সংকট এগুলোকে আরও বেশি ঘন ঘন এবং তীব্র করে তুলছে। এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হতে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানো। বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক মায়া ওয়াং চীনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এই বন্যা প্রশ্ন তুলেছে যে, চীনা কর্তৃপক্ষ দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে আরও কিছু করতে পারত কিনা। তিনি বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিব্বতিদের তথ্যের অধিকার দেওয়া হোক এবং আন্তর্জাতিক গবেষক ও সাংবাদিকদের ওই অঞ্চলে অবাধ প্রবেশের সুযোগ দিয়ে এই বিপর্যয়ের একটি কঠোর তদন্ত করা হোক।

শেয়ার করুন