জামিনে মুক্তি পেলেন তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান

প্রকাশ:

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় কারাবন্দি সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান। তিনি জানান, গত ২ আগস্ট রবিবার হাইকোর্ট থেকে হাফিজুর রহমানের জামিনের আদেশ হয় এবং মঙ্গলবার কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিনের কাগজপত্র পৌঁছালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে, তনু হত্যাকাণ্ডের এক দশক পর গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসভবন থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের ৩ মাস ১৪ দিনের মাথায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন। গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকায় পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি আদালতের মাধ্যমেই হাফিজুরের জামিনের বিষয়টি জেনেছেন। বর্তমানে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্দেহভাজন অন্যদের আটক এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, তনুর পরিধেয় জব্দকৃত জামা-কাপড়ের ডিএনএ রিপোর্ট পর্যালোচনায় ৪১ জন পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এই প্রোফাইলের সাথে মিলিয়ে দেখার জন্য গত ১৬ জুলাই আদালত ৩২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন মঞ্জুর করেন। এছাড়া গত ৮ জুন আদালত তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ১২ জন সন্দেহভাজন সার্জেন্ট (অব.) জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন।

শেয়ার করুন