চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর ফলে রেকর্ড ১৩ লাখ শিক্ষার্থী তাদের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা দিয়েছে, যা শিক্ষা বোর্ডগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে 'কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬' অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, শিক্ষার্থীদের এই বিপুলসংখ্যক আবেদন বোর্ডকে ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার পরও অনেকে খাতা পুনর্মূল্যায়ন করাতে চাচ্ছে, কারণ ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নম্বর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, গত ১৭ আগস্ট রাত ১২টায় আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং মোট ১৩ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ১১ আগস্ট থেকে এই আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু হয়েছিল।
এত বিশাল সংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বলে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকার এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত চারটি বিষয় দেখা হয়—প্রশ্নের নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বরের যোগফল সঠিক কি না, খাতার ভেতরের নম্বর ওএমআর শিটে ঠিকভাবে তোলা হয়েছে কি না এবং ওএমআর শিটের বৃত্ত সঠিকভাবে ভরাট আছে কি না। এর বাইরে আগে খাতা পুনরায় মূল্যায়ন করার সুযোগ ছিল না।
তবে গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, কোনো শিক্ষার্থীর প্রাপ্য নম্বর না দেওয়া হলে বা ভুল নম্বর থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে। এবার আইনগতভাবে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে খাতা পুনরায় মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।





