উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেল শ্রীলঙ্কা

প্রকাশ:

তিন বছর আগে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে প্রায় ধসে পড়া শ্রীলঙ্কা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক তাদের আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে দেশটিকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত করেছে। বিশ্বব্যাংকের গত বুধবার প্রকাশিত এই নতুন শ্রেণিবিন্যাস ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে কার্যকর থাকবে।

২০২৫ সালে দেশটির অর্থনীতি তথা মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, শিল্প খাতের পুনরুদ্ধার, পর্যটন ও আর্থিক সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি দেশটির অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। সংস্থাটি শ্রীলঙ্কার এই অর্জনকে ‘পুনরুদ্ধারের এক গল্প’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং একে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে।

বিশ্বব্যাংকের এই তালিকায় ২১৮টি দেশ ও অর্থনীতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আগের ক্যালেন্ডার বছরের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) ভিত্তিতে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। শ্রীলঙ্কার এই নতুন মর্যাদা সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট কাটিয়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের একটি প্রতীকী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে হামলা, করোনা মহামারি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা তার সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়ে পড়েছিল। সেই সময় দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় পরিচালিত ব্যাপক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কর্মসূচি এই পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে ছিল রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, মুদ্রানীতির সংস্কার এবং বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন। এছাড়া পর্যটন খাতের পুনরুজ্জীবন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং টানা দুই বছরের সংকোচনের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসাই শ্রীলঙ্কার এই সাফল্যের মূল কারণ।

শেয়ার করুন