উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর আকস্মিক অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইইউ’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সেউতার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি সদস্যদেশের প্রতিক্রিয়াকে তিনি ‘স্বার্থপর, বিভাজনমূলক এবং আইনবিরোধী’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মরক্কো সীমান্ত দিয়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেন। এই ঘটনাপ্রবাহে অন্তত ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে; এদের মধ্যে কেউ সাগরে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ ব্রেকওয়াটার বা ঢেউ প্রতিরোধক বাঁধ পার হওয়ার সময় পদদলিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যান। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী জানান, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা প্রায় সব অভিবাসীকে ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে তাদের অননুমোদিত যাত্রা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
সেউতার এই ঘটনা ইইউর বহিঃসীমান্ত নীতি ও সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ঐক্যে ফাটল স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি শুক্রবার ঘোষণা দেন যে, তারা স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করছেন। তাজানির অভিযোগ, স্পেন সরকারের অতীতে নেওয়া একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে ১০ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল, সেটিই আজকের এই সংকটের মূল কারণ। তার মতে, এটি ছিল ‘মৌলিকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত’ যা মানবপাচারকে উৎসাহিত করেছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। তিনি তাজানির মন্তব্যকে ‘একজন দায়িত্বশীল নেতার জন্য অশোভন’ হিসেবে অভিহিত করে ইতালির বিরুদ্ধে দলীয় স্বার্থে জনমত উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
এদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের কাছে পাঠানো চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ সদস্যদেশ সংহতি জানালেও কিছু দেশ স্পেনকে আক্রমণ করে শেনজেন এলাকা থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সানচেজ জোর দিয়ে বলেন, ফ্রন্টেক্সের তথ্যমতে স্পেনের সীমান্ত ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ সীমান্ত এবং ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইতালির তুলনায় স্পেনে অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পক্ষপাত, ভুয়া তথ্য বা রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে পরিচালিত এমন মনোভাব ইউরোপীয় আইন ও মানবিক নীতির পরিপন্থী।





