সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য মহানবী (সা.)–এর শেখানো ৪টি কার্যকর কৌশল

প্রকাশ:

দাম্পত্য জীবনের শুরুটা সহজ হলেও বছরের পর বছর সেই সম্পর্ককে সুন্দর রাখা ধৈর্য, আন্তরিকতা, ত্যাগ ও প্রজ্ঞার বিষয়। অনেক সময় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে রাগ ও অভিমান সংবরণ করতে হয়। স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়ার অভাব সম্পর্ককে দুর্বল করে এমনকি বিচ্ছেদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে প্রতিদিন কিছু ছোট অভ্যাস চর্চার মাধ্যমে ভালোবাসা ও বিশ্বাস গভীর করা সম্ভব। স্ত্রীর কোনো ভুল হলে তাকে অপমান না করে ভালোবাসা দিয়ে সংশোধন করা উচিত এবং তাকে অনুভব করানো প্রয়োজন যে তিনি আপনার সবচেয়ে আপনজন।

পরিবারের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা যত্নের অংশ এবং এতে কার্পণ্য করা উচিত নয়। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারির ৫৩৫১ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সওয়াবের আশায় কোনো মুসলিম যখন তার পরিবারের পেছনে ব্যয় করে, তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া স্ত্রীর সামনে পরিপাটি থাকা সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়। সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.) নিজে বলতেন, তিনি তার স্ত্রীর কাছ থেকে যেমন সাজগোজ পছন্দ করেন, নিজেও তার জন্য তেমনই পরিপাটি থাকতে ভালোবাসেন (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস: ১৯২৬৩)।

ঘরের কাজে সহযোগিতা করা এবং স্ত্রীর ছোট ছোট ভালো কাজের প্রশংসা করা নবীজি (সা.)–এর সুন্নাহ। আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি প্রায়ই খাদিজা (রা.)–এর প্রশংসা করতেন, এমনকি তার মৃত্যুর পরও (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২২৯)। দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ হতে পারে, কিন্তু গায়ে হাত তোলা কখনোই ইসলামসম্মত নয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা দাসের মতো স্ত্রীকে প্রহার করো না, দিনের শেষে তো তার সঙ্গেই মিলিত হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২০৪)। এছাড়া খারাপ নামে ডাকা, অশালীন ভাষা ব্যবহার, স্ত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে কটূক্তি করা বা যৌতুকের দাবি করা সম্পূর্ণ পরিত্যাজ্য।

স্ত্রীকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা না করে তাকে অনন্য অনুভব করানো এবং পুরোনো ভুল বারবার মনে না করিয়ে ক্ষমা করতে শেখা সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ। নবীজি (সা.)–এর জীবনে স্ত্রীর সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা ও খেলাধুলার নজিরও রয়েছে। আয়েশা (রা.)–এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, স্ত্রীর সঙ্গে হালকা সময় কাটানো ইসলামে অপচয় নয়, বরং অর্থবহ কাজ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৭৮)। তিরমিজির ১৬৩৭ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, মানুষের সব বিনোদনমূলক কাজ অনর্থক, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া—তিরন্দাজি, ঘোড়া প্রশিক্ষণ এবং স্ত্রীর সঙ্গে খেলাধুলা।

রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই প্রকৃত শক্তির পরিচয়। সহিহ বুখারির ৬১১৪ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়, বরং শক্তিশালী সে-ই যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। দাম্পত্য জীবনের ঝগড়া-বিবাদে এই নীতি অনুসরণ করলে সারা জীবনের অনুশোচনা থেকে বাঁচা সম্ভব। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ, ক্ষমাশীলতা ও আল্লাহভীতির ওপর ভিত্তি করেই একটি সুখী সংসার গড়ে ওঠে। মুফতি ইবরাহীম আল খলীল তেজগাঁওয়ের জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল মাদারিসের উস্তাজুল হাদিস হিসেবে এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন।

শেয়ার করুন