কাবা শরিফ দেখার পরপরই ইন্তেকাল করলেন পাকিস্তানি হাজি আবদুল লতিফ

প্রকাশ:

পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ ওরফে বাও ওমরা পালন করতে গিয়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি পেশায় বেসরকারি স্কুলগুলোতে বই সরবরাহকারী ব্যবসায়ী ছিলেন। বুধবার ভোরে মক্কা মুকাররমার মসজিদুল হারামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর চার দিন আগে হঠাৎ করেই ওমরা পালনের তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেন আবদুল লতিফ। দ্রুততার সঙ্গে ছেলে আরসালানকে নিয়ে ওমরা ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। গত ১১ আগস্ট ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর বিমানটি জেদ্দায় পৌঁছালে সেখান থেকে তারা মক্কার পথে যাত্রা করেন।

ছেলে আরসালান জানান, জেদ্দা থেকে মক্কার পথে বারবার সময় দেখছিলেন তার বাবা। তিনি চালককে দ্রুত মক্কায় পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করে বলছিলেন, 'আমার শরীর একদম ভালো আছে। শুধু আল্লাহর ঘরটি যত দ্রুত সম্ভব দেখতে চাই।' বুধবার ভোরে তারা মক্কার হোটেলে পৌঁছান। সেখানে বিশ্রাম নেওয়ার বদলে দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য ছেলেকে তাগিদ দেন আবদুল লতিফ।

হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর তার অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। আরসালানের বর্ণনা অনুযায়ী, এ সময় তার বাবা উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো কাবা শরিফের দিকে তাকালে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় 'আল্লাহু আকবার' ও ইস্তিগফার পড়তে পড়তে তিনি বসে পড়েন এবং হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সেখানে উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

শেয়ার করুন