প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ১৫১ জনকে নিয়োগ ও ফল পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ

প্রকাশ:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ২০২৩ সালের সার্কুলারের আওতায় করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত তিনটি প্রধান নির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রথমত, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫১ জন রিটকারী প্রার্থীকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২০২৩ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪৬ হাজার ১৯৯ জন প্রার্থীর ফলাফল সুপ্রিম কোর্টের কোটা-সংক্রান্ত (সিপি নং-২৫১৬/২০২৪) রায়ের আলোকে মেধাভিত্তিকভাবে পুনরায় প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, মামলা চলাকালীন ইতিমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ হাজার ৫৩১ জন সহকারী শিক্ষকের চাকরি ন্যায়বিচারের স্বার্থে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০২৩ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সময় বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৫১ জন প্রার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করে দাবি করেন যে, জুলাই মাসের পর সুপ্রিম কোর্টের কোটা-সংক্রান্ত রায়ের আলোকে মেধাভিত্তিক নিয়োগ হওয়া উচিত। হাইকোর্ট ওই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকারের আপিলের প্রেক্ষিতে আজ আপিল বিভাগ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের ব্যাখ্যায় আইনজীবী তাজুল ইসলাম জানান, আদালত ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ বা পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করে ইতিমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চাকরি বহাল রেখেছেন, যাতে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে, যেসব প্রার্থীর ফলাফল পুরোনো কোটা পদ্ধতির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে মেধাভিত্তিক ফল প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই রায়ের অর্থ এই নয় যে অতীতে কোটা পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়া সব নিয়োগ এখন চ্যালেঞ্জ করা যাবে। যেসব নিয়োগ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, সেগুলোকে চূড়ান্ত বলেই গণ্য করা হবে। তবে চলমান বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত ভিত্তি থাকলে ভবিষ্যতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন