নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের উদ্দেশ্যে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধান। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে তারা বঙ্গভবনে পৌঁছান। তিন বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বঙ্গভবনে আসছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা ভোটগ্রহণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১৬৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, ভোটার তালিকায় থাকা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেছেন; বিভিন্ন কারণে ছয়জন ভোট দিতে পারেননি।
নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১১ অনুযায়ী নির্বাচনী কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২(৬) অনুসারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।





