তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতেও এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে টানা লোডশেডিংয়ের কারণে নাশকতার আশঙ্কায় সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বরাদ্দ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। বর্তমানে শিল্প খাতে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ কমিয়ে তা বিদ্যুৎ উৎপাদনে যোগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ পরিবর্তনের ফলে সারা দেশে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। অনেক কারখানা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২-৩ ঘণ্টাও চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বুধবার জানান, শিল্পকারখানাগুলো গ্যাস না পাওয়ার প্রচুর অভিযোগ করছে, তবে তিতাসের প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ীই সরবরাহ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এবং পরিস্থিতি শিগগিরই উন্নতির পথে। বুধবার জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, বিদ্যুৎ খাতে আগে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, এরপর অন্যান্য খাতে। তিনি জ্বালানি খাতের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, তাদের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ বিভাগ, পিডিবি ও আরইবির তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ও খুলনায় ৭ ঘণ্টা এবং কুমিল্লায় ৬ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জানান, এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা ৬০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ময়মনসিংহ-১ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জোনাব আলী জানান, সেখানে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৈয়দপুর ও খুলনায় ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং ৭০০ মেগাওয়াটের মেঘনাঘাট কেন্দ্রটি পুনরায় চালু হয়েছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চাঁদপুর ও সিলেটের একটি করে ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরামকোর এলএনজিবাহী কার্গো সামিটের ভাসমান টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং এক্সিলারেট এনার্জি একটি মাত্র বয়লার দিয়ে আংশিক সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সারা দেশে মোট ২০৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৮৮ থেকে ৯০ কোটি, শিল্পে ৮০ কোটি, সার কারখানায় ১৪ কোটি এবং অন্যান্য খাতে ২৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।





