আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। বর্তমানে দণ্ডিত আসামিরা কোথায় অবস্থান করছেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও, তাদের অবস্থান শনাক্ত করা মাত্রই গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল এই সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। মামলার রায়ে কিছু অভিযোগে আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ প্রসিকিউটর জানান, এই বাজেয়াপ্ত সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশনা রয়েছে রায়ে।
মামলার প্রতিটি আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল এবং অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন বলে আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি এবং ব্যক্তিগত দায়ের বিষয়টি সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশের পরই নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক ছিলেন এবং তারা বিচার মোকাবিলা করেননি। তাই তাদের কোনো বক্তব্য আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, রায় প্রকাশের পর ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সুযোগ থাকে, তাই এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অন্য ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ৩০ দিন পার হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার আইনগত কোনো বাধা ছাড়াই এই রায় বাস্তবায়নে কাজ করতে পারবে।





