১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ঋণমান পূর্বাভাস নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল করলো মুডিস

প্রকাশ:

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণী সংস্থা মুডিস রেটিংস বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে উন্নীত করে ‘স্থিতিশীল’ (স্ট্যাবল) করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যায়নে সংস্থাটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ‘ইস্যুয়ার’ ও ‘সিনিয়র আনসিকিউরড’ রেটিং বি২-এ অপরিবর্তিত রেখেছে। একইসঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিং ‘নট প্রাইম’-ও আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে। মুডিসের মতে, বি২ রেটিংয়ের পর্যায়ে যেসব ঝুঁকির কারণে পূর্বাভাস নেতিবাচক ছিল, এখন তা অনেকটাই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস পাওয়াকে এই উন্নতির একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছে মুডিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের প্রতি শক্তিশালী জনসমর্থন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমিয়েছে। এর ফলে কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম রাজনৈতিক কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও আগের তুলনায় কমে এসেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের শক্তিশালী অবস্থানও এই ইতিবাচক মূল্যায়নে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেড়ে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই রিজার্ভ দিয়ে বর্তমানে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। মুডিসের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ, নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের অসঙ্গতি কমে আসা রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে কাজ করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় মেটাতে এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ সহায়ক হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকেও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে মুডিস। সংস্থাটির মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করছে। তবে আইএমএফের পরবর্তী ঋণ কর্মসূচির শর্তাবলি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে।

সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকে উন্নতি হলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত আগের গতিতে ফিরবে না বলে সতর্ক করেছে মুডিস। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি ৪ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এছাড়া মূল্যস্ফীতির চাপ দ্রুত কমবে না এবং তা ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে বলেও সংস্থাটি ধারণা প্রকাশ করেছে।

শেয়ার করুন