নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ:

সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান।

নতুন এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেতনকাঠামোর কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে বেশি সময় লাগবে না। সম্প্রতি আইএমএফের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও তারা নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরাসরি কোনো আপত্তি জানায়নি, বরং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটি নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করেছে। এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এর আগে গত বছরের ২৭ জুলাই গঠিত ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশনের সুপারিশে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এই কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

ব্যয়ের এই চাপের কারণে নাসিমুল গনি কমিটি ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে। সর্বশেষ সুপারিশ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার বিষয়ে কমিটির সদস্যরা একমত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য ব্যয় করা হবে।

শেয়ার করুন