বন্দী থাকা মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সোয়ে। গত রোববার দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে টিন মং সোয়ে সু চিকে ‘বোন’ হিসেবে সম্বোধন করে বলেন, তিনি আমাদের আত্মীয় এবং তাঁর দেখভাল করার পূর্ণ দায়িত্ব আমাদেরই। মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে অং সান সু চি বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চির বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে জান্তা সরকার সম্প্রতি তাঁর সাজা এক–তৃতীয়াংশ কমিয়ে এনেছে। সু চির সহযোগীরা দাবি করেছেন, তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এই সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে। সু চি কোনো ভুল স্বীকার করেননি এবং তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা-ও জান্তা সরকার প্রকাশ করেনি।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারিও দীর্ঘদিন ধরেই সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সু চি সুস্থ আছেন। তবে আসিয়ানের পক্ষে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেসহ অন্যান্য কূটনীতিকরা সু চির সুস্থতার দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরাসরি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছেন।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় লাখখানেক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি ফেরাতে আসিয়ান পাঁচ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যা বাস্তবায়নে জান্তা সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আসিয়ানের বৈঠকগুলোয় মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্বকে আর ডাকা হয় না। তবে এবারের বৈঠকে মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাজারিও। তিনি একে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে আলোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের পর এই প্রথম আসিয়ানের শীর্ষ কূটনীতিকরা মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসলেন।
বন্দী থাকা সাবেক নেত্রী অং সান সু চি (৮১) সুস্থ আছেন।
তাই তাঁর দেখভাল করার দায়িত্ব আমাদেরই।”.‘সু চি বেঁচে আছেন কি না, আমরা যাচাই করতে পারছি না’.১১ সদস্যের আসিয়ানের শীর্ষ কূটনীতিকেরা (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) গতকাল মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সামনাসামনি বৈঠক করেছেন।




