সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

প্রকাশ:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাতে জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে ১৭ সদস্যের প্রস্তাবিত কমিটির মধ্যে বিরোধী দলের নাম না আসায় আপাতত ১২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম মনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল, জোট এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের নিয়ে এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বিরোধী দলের কাছ থেকে নাম পাওয়ার আশায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করা হয়েছিল, কিন্তু কয়েক দফা যোগাযোগের পরও তাদের পক্ষ থেকে কোনো নাম পাওয়া যায়নি। প্রস্তাবিত ১৭ সদস্যের মধ্যে বিএনপি থেকে ৭ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র সদস্য থেকে একজন করে এবং বিরোধী দল থেকে ৫ জন সদস্য রাখার পরিকল্পনা ছিল। বিরোধী দলের ৫টি পদ আপাতত শূন্য রাখা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে নাম পাওয়া গেলে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।

কমিটির সদস্যরা হলেন সালাউদ্দিন আহমেদ (সভাপতি), মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জয়নাল আবেদিন, মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, সাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল এবং মোহাম্মদ অলিউল্লাহ।

এদিকে, এই কমিটি গঠনের প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল, যা তারা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের মাধ্যমে রক্ষা করতে চান। ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে অসম্মান করা হলে জনগণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের সিদ্ধান্ত তাদের রাজনৈতিক বিষয় হলেও জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন ও সংসদীয় কার্যক্রম চলায় আলাদা শপথের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই এবং তা আইনগতভাবে ‘নাল অ্যান্ড ভয়েড’। মন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ৬৫ ও ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ পথ সংসদীয় প্রক্রিয়া। তিনি জানান, কমিটি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, সম্পাদক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিলের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। তিনি বিরোধী দলকে আবেগতাড়িত রাজনীতি পরিহার করে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

এহেন অবস্থায় আমরা যে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার প্রস্তাবিত কাঠামো নিম্নরূপ: বিএনপি থেকে ৭ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে ১ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ১ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন, স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকে ১ জন এবং বিরোধী দল থেকে ৫ জন-এই নিয়ে ছিল মোট ১৭ জন।

বিরোধী দলের কাছ থেকে নাম পাওয়া গেলে তাদের ৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।কমিটির সদস্যরা হলেন-সালাউদ্দিন আহমেদ, ২৯৪ কক্সবাজার-১, সভাপতি।

শেয়ার করুন