জীবনের মঞ্চে দ্যুতিময় মির্জা ফখরুল: এক অকৃত্রিম বন্ধুর বয়ান

প্রকাশ:

স্কুল জীবনে ‘স্পেন বিজয়ী মুসা’ নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে ঠাকুরগাঁও হাইস্কুলে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঞ্চসফল সেই ঐতিহাসিক নাটকটি তাকে সে সময় ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বত্র পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই অভিনয়ের মঞ্চ থেকে বেরিয়ে এসে তিনি আজ গোটা বাংলাদেশকে জয় করে নিয়েছেন। শুক্রবার তিনি দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। তার দীর্ঘদিনের অকৃত্রিম বন্ধু ও সুহৃদ হিসেবে তার এই অর্জনে গর্বিত লেখক।

রাষ্ট্রপতির মতো মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য মির্জা ফখরুলের চরিত্র মাধুর্য ও কর্মগৌরব তাকে এক অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়ে ওঠা এই মানুষটির সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক শৈশব থেকে তুই-তোকারির। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে ভালো মানুষ হওয়ার সব গুণাবলী অঙ্কুরিত হয়েছিল। তার বাবা মির্জা রুহল আমিন ছিলেন একজন রাশভারী অথচ প্রাণখোলা মানুষ, যিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি লেখককে সন্তানস্নেহে ভালোবেসেছেন এবং বিভিন্ন সময় এলাকার উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

মির্জা ফখরুল তার বাবার মতোই অন্তরঙ্গতায় সকলকে জড়াতেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি তার অনুরাগ ছিল সুগভীর। সত্তরের দশকে এবং পরবর্তী সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গন মুখর হয়ে উঠেছিল তার হাত ধরেই। সংগীত ছিল তার ভালোবাসা; তিনি গান শুনতেন এবং পরিশীলিত জীবন-চেতনা লালন করতেন। ঠাকুরগাঁওয়ের ‘নিক্কন সংগীত বিদ্যালয়’-এর বিভিন্ন পরিবেশনার পরিকল্পনায় তিনি সমৃদ্ধি এনেছিলেন। এছাড়া আবৃত্তি ও নাটকে তার পারদর্শিতা ছিল অসাধারণ। স্কুলের বার্ষিক নাটকে নিয়মিত অংশ নেওয়া মির্জা ফখরুল স্কুলের ডায়মন্ড জুবিলী উৎসবেও ‘স্পেন বিজয়ী মুসা’ নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির মঞ্চে অভিনীত অনেক নাটকে তার অভিনয় নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করতো।

ক্রীড়াঙ্গনেও তার ছিল উজ্জ্বল উপস্থিতি। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রিকেট দলের একজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে মাঠে বলকে সীমানা পার করতেন। সেই মাঠের সীমানা পেরিয়ে আজ তিনি সমগ্র দেশের কর্ণধার হিসেবে আলো ছড়াতে চলেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দরদি মানুষ। বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ বিতরণ, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কিংবা আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক গুণাবলী তার চরিত্রে ছিল প্রস্ফুটিত।

মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অফুরান। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আপন করে নিতে পারতেন। তার বিনম্রতা ছিল স্বভাবজাত, যা তাকে সব বয়সী মানুষের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। কোনো ধরনের সংকীর্ণতা বা বৈষম্য তাকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে সকলকে একত্রিত করার সহজাত ক্ষমতা ছিল তার। একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত পদ অলঙ্কৃত করতে যাচ্ছেন। বন্ধু হিসেবে তার এই নতুন কর্মধারা জাতিকে নতুনভাবে প্রাণিত করবে এবং বাংলাদেশ একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে লেখক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

‘স্পেন বিজয়ী মুসা’ নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে স্কুল জীবনে ব্যাপক সুনাম কুড়ান তিনি। ঠাকুরগাঁও হাইস্কুলে অত্যন্ত মঞ্চসফল ঐতিহাসিক এ নাটক তাকে সে সময় ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বত্র পরিচিতি এনে দেয়। আর পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪আজ তিনি তার কর্মসফল জীবনে গোটা বাংলাদেশকে জয় করে নিয়েছেন। আজ শুক্রবার দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ ক

শেয়ার করুন