১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাবতলী–দাসেরকান্দি মেট্রোরেল প্রকল্প পাস, বাড়ল অন্য দুই লাইনের খরচ

প্রকাশ:

রাজধানীর যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন একটি মেট্রোরেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত প্রস্তাবিত এই মেট্রোলাইনটি ‘ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫), সাউদার্ন রুট’ হিসেবে পরিচিত। ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

একই সভায় বিদ্যমান আরও দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-১) নতুন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা এবং লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। এই দুটি প্রকল্পে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার ঋণের সুদের হার নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী মাস থেকে ঋণের সুদের হার ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং ৬ মাস পর তা সাড়ে ৩ শতাংশ অতিক্রম করতে পারে। তাই জাপানের ঋণের এই প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, নিজস্ব প্রযুক্তিতে মেট্রো তৈরির সক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠেনি এবং জাপান এই ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে তা নির্মাণ করতে পারবে না। কারিগরি কমিটি এই ব্যয় কাঠামো যাচাই করেছে।

আজকের একনেক সভায় মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যার মোট ব্যয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাতটি নতুন ও পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। অনুমোদিত অর্থের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন, নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ। এছাড়া বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন, খুলনা নৌ অঞ্চলে আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ, খুলনা পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন, বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মতো প্রকল্পগুলোও অনুমোদন পেয়েছে।

শেয়ার করুন