চলতি বিশ্বকাপে গোলকিপারদের অসাধারণ সব সেভ ও বীরত্বের বিপরীতে এক চরম ব্যর্থতার সাক্ষী হলো সিয়াটল। ভোজিনহা, অরল্যান্ডো গিল কিংবা এলয় রুমরা যখন গোলপোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গোলকিপার ম্যাট ফ্রিজ উপহার দিলেন এক হতাশাজনক পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচে তার এক মুহূর্তের ‘ব্ল্যাকআউট’ যুক্তরাষ্ট্রের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের।
ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ম্যাট আপসন ফ্রিজের এই ভুলকে সাধারণ কোনো ভুল না বলে একে একটি ‘হরর শো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ফ্রিজ আসলে কী ভাবছিলেন তা বোধগম্য নয়। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র যখন সমতায় ফেরার লড়াইয়ে মরিয়া, ঠিক তখনই এই বিপর্যয় ঘটে। বেলজিয়ামের বাঁ প্রান্ত থেকে উড়ে আসা একটি পাসে ডি-বক্সের বাইরে বেরিয়ে আসেন ফ্রিজ। প্রাথমিকভাবে বুক দিয়ে বলের গতি রোধ করলেও এরপরই ঘটে বিপত্তি।
বাঁ পায়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ফ্রিজের পা মাটিতে আটকে যায়, যা তাকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে। এই সামান্য বিলম্বের সুযোগে তিনি বল তুলে দেন বেলজিয়াম ফরোয়ার্ড চার্লস ডি কেটেলারার পায়ে। সেখান থেকে বল পেয়ে বেলজিয়াম মিডফিল্ডার হান্স ফানাকান প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে ফাঁকা পোস্টে শট নিয়ে গোল করেন। ডিফেন্ডার টিম রিমের প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও বল জালে জড়ায়। এই গোলের পরই ম্যাচ পুরোপুরি বেলজিয়ামের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং পরবর্তীতে রোমেলু লুকাকুর গোল যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে নিজের ভুল নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ২৭ বছর বয়সি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে পড়া ম্যাট ফ্রিজ বলেন, তৃতীয় গোলটির দায় মূলত তার সিদ্ধান্তের। তিনি জানান, ডি কেটেলারাকে খুব কাছে মনে হওয়ায় তিনি আঘাত পাওয়ার ভয়ে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শারীরিক আঘাত পাওয়ার সেই ক্ষণিকের ভীতিই তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে অসার করে দিয়েছিল। মাঠের মধ্যে মাথায় হাত দিয়ে ফ্রিজের দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যটি মার্কিন ফুটবলের ইতিহাসে এক চরম আক্ষেপের মুহূর্ত হয়ে থাকবে।





