আটলাণ্টায় মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় ও রেফারিং বিতর্ক

প্রকাশ:

আটলাণ্টা স্টেডিয়ামে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জয় পেলেও ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। ফরাসি রেফারি ল্যাতেজিয়ারের দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা কার্যত বড় ধরনের ঝড়ের কবলে পড়েছিল, যেখানে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই ম্যাচে মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন, যা এই আসরে তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।

ম্যাচে মোট পাঁচটি গোল হলেও মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম হয়। গোল হওয়ার ২০ সেকেন্ড আগে ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হয়, যা ফুটবল বিশ্বে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। এমনকি মাঠের মধ্যে রেফারির এই সিদ্ধান্তে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে হাসতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই ম্যাচটিকে ঘিরে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন।

তবে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আর্জেন্টিনা দুটি গোল করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মেসি নিজে একটি গোল করেন এবং তার বাড়ানো বলে অন্য গোলটি করেন রোমেরো। বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করলেন মেসি। খেলার ইনজুরি টাইমে নির্ধারিত জয়সূচক গোলটি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মিশরের তারকা খেলোয়াড় সালাহকে ফাউল করা হলেও রেফারি তা এড়িয়ে যান এবং ভিএআর রিভিউয়ের সুযোগও দেননি। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর পুরো ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে পিরামিডের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য শক্তির কাছে তাদের হার মানতে হয়েছে।

মিশর এর আগে চারবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এবারই প্রথম নকআউটে উঠেছিল। অঙ্কের হিসেবে মিশর হারলেও বিবেকের বিচারে তাদের পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে। মেসি তার ৩৯তম জন্মদিন পালনের পরপরই এই কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। ম্যাচ শেষে রেফারি ল্যাতেজিয়ারের অসংলগ্ন সিদ্ধান্ত, লাল ও হলুদ কার্ডের ব্যবহার খেলার সৌন্দর্য নষ্ট করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। ১৯শে জুলাই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় কে হবেন, তা নিয়ে এখন চলছে জল্পনা-কল্পনা। এই তালিকায় লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্দ ও হ্যারি কেইনের নাম উচ্চারিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন