প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া দায়িত্ব ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। রোববার ময়মনসিংহের নেপ মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষার্থীর অধিকার নিশ্চিত করা, কমিউনিটিকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং কার্যকর নেতৃত্ব তৈরির বিষয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে সিলেটে এমন কর্মশালা হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাকি ছয়টি বিভাগেও তা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যেন কোনো শিশু শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। এই লক্ষ্য অর্জনে মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগসহ বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়কে নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এলাকার ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী কারিকুলামে ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে স্পিকিং টেস্ট চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি থাকবে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে স্কুল ভবনের মধ্যেই ওয়াশ ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে অপপ্রচার বন্ধ করে সরকার প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষ মসজিদকে নিজের মনে করে বলে সেখানে চুরির ঘটনা কম ঘটে, অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই মানসিকতার অভাব রয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে বিদ্যালয়কে সবার নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনসের পরিচালকসহ ময়মনসিংহ বিভাগের সকল জেলার পিটিআই সুপার, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহে নেপ মিলনায়তনে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা, ময়মনসিংহ বিভাগ আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।





