খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে খুলনা প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কতিপয় সুবিধাবাদীর অপকর্মের দায় দল বা সরকার কখনোই বহন করবে না।
মন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক, তবে তা যেন ব্যক্তিগত আক্রোশ বা শত্রুতায় রূপ না নেয়। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দলের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অনৈক্য ফ্যাসিবাদের দোসরদের সুযোগ করে দেয়। সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে।
নির্বাচনী প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, পকেটের লোক বা মাই ম্যান সংস্কৃতির দিন শেষ হয়েছে। এখন থেকে দলীয় কার্যালয়ে সময় কাটানো বা মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেওয়াই যোগ্যতার মাপকাঠি হবে না। তিনি জানান, সাধারণ ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং নির্বাচনের মাঠে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। তৃণমূল নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের পরামর্শ দেন তিনি।
বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ধর্ষণ ও স্পষ্ট দুর্নীতির মামলা ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে সরকার উদ্যোগী হয়েছে। জেলা প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে, পাবলিক প্রসিকিউটরদের গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রূপসা ঘাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে কৃষকদের পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টোল আদায় ও চাঁদাবাজির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান মন্ত্রী। তিনি প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজদের পক্ষে কোনো বড় নেতা তদবির করলেও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
রাষ্ট্রীয় অপচয় রোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, ভিআইপি প্রটোকল সংস্কৃতি পরিবর্তন করা হয়েছে। মন্ত্রীদের গাড়ির বহর কমানো এবং জ্বালানি বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমিয়ে জনগণের নিরাপত্তায় পুলিশকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা সভাপতিত্ব করেন এবং জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।





