প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৩৯আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৫৮
সাভারের একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের এক শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্বারা সংঘটিত যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শতাধিক মাদরাসার মুহতামিমসহ মোট ৬০০ জন বিশিষ্ট আলেম সমকামী সহিংসতা প্রতিরোধে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কঠোরভাবে কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার ‘মূল্যবোধ আন্দোলন’-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেনের পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আলেমগণ বলেন, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ কেবল নৈতিক অবক্ষয়ই নির্দেশ করে না, বরং এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। ইসলামে সমকামিতাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পশ্চিমা অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন এনজিও সমকামীতাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন অ্যাপ ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই প্রবণতা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ ৩৭৭ ধারা কার্যকর না থাকায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
আলেমদের মতে, ইংল্যান্ডের ১৫৩৩ সালের ‘Buggery Act’-এর আদলে ব্রিটিশরা উপনিবেশগুলোতে ৩৭৭ ধারা প্রবর্তন করেছিল, যার মাধ্যমে প্রকৃতিবিরুদ্ধ ও অস্বাভাবিক যৌন অপরাধের বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ ৯২ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়ায় এখানে সমকামিতার মতো পাপাচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সাভারের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, সমকামিতার প্রচার ও প্রসারের সঙ্গে জড়িত এনজিওগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতি প্রদানকারী আলেমদের মধ্যে রয়েছেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর মোখতার আহমাদ, মুফতি সাইফুল ইসলাম, মাওলানা হাসান জামিল, আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহসহ আরও অনেকে। বিবৃতিদাতাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা মূল্যবোধ ডট কম (mullobodh.com) ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।





