টালিউড অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য কোয়েল মল্লিক তার এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে ১১ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন, তবে নিয়ম অনুযায়ী সশরীরে উপস্থিত না হওয়ায় তা গৃহীত হয়নি।
পদত্যাগের পরপরই কোয়েল মল্লিক দিল্লির একটি বাসভবনে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের দলীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই ঘটনার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছেড়ে অভিনেত্রী কি তবে বিজেপির পথে হাঁটছেন? যদিও এখন পর্যন্ত কোয়েল মল্লিক আনুষ্ঠানিকভাবে দলবদলের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। একই সময়ে আরও তিনজনকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল, যারা হলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাবেক ডিজি রাজীব কুমার, সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর আগে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা বিজেপিতে যোগ দেন এবং চলতি মাসের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। কোয়েলের ক্ষেত্রেও এমন কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।
কোয়েল মল্লিক বাংলা চলচ্চিত্রের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা। ২০০৩ সালে ‘নাটের গুরু’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ দুই দশকের অভিনয় জীবনে তিনি ‘বন্ধন’, ‘শুভদৃষ্টি’, ‘প্রেমের কাহিনি’, ‘মন মানে না’, ‘পাগলু’, ‘হেমন্তের পাখি’, ‘অরুন্ধতী’ ও ‘ছায়া ও ছবি’-এর মতো অসংখ্য সফল সিনেমায় অভিনয় করে টালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন।




