হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ইরান-ওমানের সমঝোতা

প্রকাশ:

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিজস্ব অংশ এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ থেকে অর্জিত রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানান, প্রায় এক মাস ধরে ওমানের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি ফলাফলে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, 'হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের। আমরা প্রায় এক মাস ধরে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করেছি ও উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ফলাফলে পৌঁছেছি।' এই সমঝোতার আওতায় প্রণালির জলসীমায় প্রতিটি দেশের অংশ এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত রাজস্বে দুই দেশের অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এই সমঝোতা কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত মানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। মোহেব্বির অভিযোগ, ইরান ও ওমানের মধ্যকার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা সমঝোতা বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বাধা দেওয়া বন্ধ করে এবং চুক্তিতে ফিরে আসে, তবেই এই কাঠামোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হতে পারে। অন্যথায়, কোনো অবস্থাতেই এই জলপথ খুলে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হতো। যুদ্ধের কারণে জলপথটিতে নৌ চলাচল অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দাম বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটন পাল্টাপাল্টি অবরোধ আরোপের মাধ্যমে এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরান ও ওমান কয়েক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে আসছে। প্রায় এক মাসের আলোচনার পর উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ফল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন