বৈধ আয়ের অতিরিক্ত ডলার উপার্জনকারী ব্যবসায়ীরাই হুন্ডিতে বেশি সক্রিয়

প্রকাশ:

মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কুয়েতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি অংশ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যারা ভিসা ট্রেডিংসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে বৈধ আয়ের অতিরিক্ত ডলার, রিংগিট বা ইউরো উপর্জন করছেন, তারাই আইনি জটিলতায় পড়ার ভয়ে মূলত হুন্ডিকে বেছে নিচ্ছেন। শুধু বিদেশ থেকেই হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আসছে না, বরং দেশ থেকেও হুন্ডি সিন্ডিকেটের সদস্যরা নানা কৌশলে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে।

মালয়েশিয়ার বুকিত বিনতাং এলাকার একজন পেশাদার সাংবাদিক জানান, মালয়েশিয়ায় এখন যারা হুন্ডি চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে। তারা প্রতি ডলারে ৩০.৫০ রিংগিট পর্যন্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। আগে কোতারায়া এলাকাটি হুন্ডি ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত থাকলেও এখন তা পুরো মালয়েশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যারা আদম ব্যবসার সাথে জড়িত, তারা ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে ১০/২০/৩০ পয়সা বেশি রেট পাওয়ায় বিকাশের মাধ্যমে হুন্ডিতে টাকা লেনদেন করছে। কোতারায়ার ‘এন’ অদ্যাক্ষরের এক নেতা পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, যা বাংলাদেশ হাইকমিশনেরও অজানা নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরেও একই চিত্র বিরাজমান। সেখানে স্টুডেন্ট, ভিসা কেনাবেচা, গাড়ির এলসি, স্বর্ণ ও সবজি ব্যবসার নামে দেদারসে হুন্ডিতে টাকা লেনদেন চলছে। ঢাকার নয়া পল্টনের এক গাড়ির শোরুমের মালিক স্বীকার করেছেন যে, গাড়ির এলসির জন্য প্রয়োজনীয় সব টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো সম্ভব হয় না, তাই বাধ্য হয়েই হুন্ডির সাহায্য নিতে হয়।

কুয়েতের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেখানে হুন্ডি ব্যবসা বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অতীতে দূতাবাস কিছু ক্যাম্পেইন করলেও এখন আর তাদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। প্রবাসীদের বৈধ আয়ের বাইরে যে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জিত হয়, তা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে গেলেই তারা আইনি বিপদে পড়ার ভয় পান, তাই হুন্ডিই তাদের কাছে একমাত্র উপায়। কুয়েতে এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ রেমিট্যান্স হুন্ডির মাধ্যমে আসছে। দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই অনিয়ম রোধে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শেয়ার করুন