দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের একটি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের নিহতদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি চলছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিহত মো. আপন (২০)-এর নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আপনের মা আঁখি বেগম। বিলাপ করে তিনি বলছিলেন, তার ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা। আপনের বড় ভাই, সৌদি প্রবাসী মো. জুয়েল জানান, চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন তার ভাই। সোমবারও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বাড়ি পাকা করে বাবা-মাকে নিয়ে থাকার স্বপ্ন ছিল আপনের, কিন্তু তা অপূর্ণই রয়ে গেল। জুয়েল আরও বলেন, শুনেছি লাশ পুড়ে গেছে, অন্তত ছাইটুকু দেশে আনতে পারলে কবর দিতে পারতাম।
একই ঘটনায় নিহত হয়েছেন প্রবাসী মো. ফাহিম, যিনি প্রায় ১০ বছর আগে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তার উপার্জনেই দুই বোনের বিয়ে এবং যমজ দুই ভাইয়ের পড়াশোনা চলছিল। দেশে ফিরলে তাকে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পরিবারের, কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না।
নিহতদের তালিকায় আরও রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের তৈলখিরার চর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬), বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের প্রয়াত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহিন (২৬) এবং মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাজিক (৫৫)। মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্বজনদের একটাই আকুতি, অন্তত প্রিয়জনদের শেষ স্মৃতিটুকু যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।





