রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি সাংবিধানিকভাবে বা শারীরিক অসুস্থতার কারণসহ যেকোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান, তবে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কেবল সংবাদমাধ্যমেই গুঞ্জন শুনছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি সত্যিই পদত্যাগ করতে চান, তবে তাঁকে স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এর বাইরে এ বিষয়ে তিনি আর কিছু জানেন না। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা বা আলোচনা নেই। এ ছাড়া, রাষ্ট্রপতি বিদেশে থাকাকালীন ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং এমন কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন।
একই বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি বিদেশে থাকাকালীন শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন কি না, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি। তবে তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রনেতারা তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন, তবে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি ও সরকারের পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হলেও, সরকার বা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন এবং তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।





