১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশ:

দেশের জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে মধ্যমেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের এই কার্যক্রমের পর আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের জ্বালানি খাতের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন।

গ্যাসের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। মাহদী আমিন জানান, বর্তমানে বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি এলএনজি টার্মিনাল যুক্ত করা হবে। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে, যার জন্য এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে।

জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের পর গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটাতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের দাম অপেক্ষাকৃত কম এবং জনগণের ওপর চাপ কমাতে সরকার এই খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিসের রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতির কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন একে ‘সুখবর’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেছে, যা বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনসহ সাতটি ভাগে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, মুদ্রানীতির সফলতায় প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান ও ওমানের শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ তৈরির তথ্যও তিনি জানান। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত রেখে সার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত এক মাসে বাস্তবায়িত ও গৃহীত বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহির মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাংলাদেশকে সরকার নতুনভাবে পুনর্গঠন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ২১২ দিন চলছে এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

শেয়ার করুন