৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় দরপতন

প্রকাশ:

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন জোরালো বার্তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্পট গোল্ড বা সরাসরি সোনার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৩১ ডলারে নেমেছে। এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ধাতুটি টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের শিকার হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণের ফিউচার বা চুক্তিকালীন দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিতই স্বর্ণের মূল্য পতনের মূল কারণ। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেড ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসন্ন বৈঠকের আগে নীতিগত সুদের হার বাড়ানোর জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্থায়ী রিটার্ন না থাকায় বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রির দিকে ঝুঁকে পড়েন। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ফেডের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কঠোর সিদ্ধান্তের পথ প্রশস্ত হয়েছে।

একই দিনে তেলের বাজার ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক ইরানের তৎপরতার কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও দরপতনের ঢেউ লেগেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ০২ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বিশ্ববাজারে হ্রাস পেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।

শেয়ার করুন