রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আজমল হোসাইন গত আড়াই মাস ধরে চরম গ্যাস সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের রান্নার চাহিদা মেটাতে তিনি সাত হাজার টাকা দিয়ে একটি বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তার বিদ্যুতের বিল আগের ১৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু রান্নার খরচই নয়, বিশুদ্ধ পানির অভাবও তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। গ্যাস না থাকায় পানি ফুটাতে না পারায় তার দুই সন্তান আরসালান ও আহসান অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এখন তিনি এটিএম বুথ থেকে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করেন, তবে সেই পানির বিশুদ্ধতা নিয়েও তার মনে সন্দেহ রয়েছে, কারণ অতীতে এই পানি পান করে পুরো পরিবার ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হয়েছিল।
মিরপুরের হাজি মার্কেটের গৃহিণী আয়েশা সিদ্দিকা চার মাস ধরে একই সমস্যায় ভুগছেন। তার বাসায় এখন আর গ্যাস আসে না বললেই চলে। বাধ্য হয়ে তিনি বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার ও ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করছেন। আয়েশা জানান, সরকারি গ্যাস বিল নিয়মিত পরিশোধ করার পরও তাকে অতিরিক্ত আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল গুনতে হচ্ছে, যা আগে ছিল মাত্র ১ হাজার টাকা।
পূর্ব শেওড়াপাড়ার শান্তা রানী পরিস্থিতির চাপে রান্নাঘরে গ্যাসের চুলার পাশে মাটির চুলা বসিয়েছেন। তিনি জানান, ভেজা লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে গিয়ে বেলা গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়, ফলে সকালের নাশতা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কালশীর শিল্পী খাতুনের অবস্থা আরও শোচনীয়; টিনশেড বাসায় থাকার কারণে বাড়িওয়ালা বৈদ্যুতিক বা লাকড়ির চুলা ব্যবহারের অনুমতি দেন না। ফলে তাকে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে, যা তার রিকশাচালক স্বামীর আয়ের বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শিহাব জানান, মিরপুর-১২ নম্বরের বাসায় দেড় মাস ধরে চুলায় একেবারেই গ্যাস নেই। বাইরে থেকে খাবার কিনতে গিয়ে তার খরচ বেড়েছে এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে তিনি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন। কাজীপাড়ার বাসিন্দা সাবরী হাসান জানান, তাদের চারজনের ব্যাচেলর মেসে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে গিয়ে জনপ্রতি খরচ সাত থেকে আট শ টাকা বেড়ে গেছে।
দেশে গত নয় বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি মেটাতে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয় এবং মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের দুটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন করা হয়। ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও এলএনজির কার্গো সংকটে ১৯ আগস্ট বিকেলে এক্সিলারেটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো আসায় সরবরাহ শুরু হলেও সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগে সরকারি গ্যাসের জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হতো।
সে ক্ষেত্রে জনপ্রতি ২০০ টাকার মতো খরচ হতো।





