অস্ট্রেলিয়ায় দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতা: কুমিরের রাজধানী থেকে ফিশিং ক্যাপিটাল

প্রকাশ:

অস্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটরির রাজধানী ডারউইন পরিচিত ‘ক্রোকোডাইল ক্যাপিটাল’ বা কুমিরের রাজধানী হিসেবে। ঘরের মাঠে ধবলধোলাই কী জিনিস, ১৩৯ বছর ধরে জানে না দলটা। ডারউইনের প্রথম টেস্ট জেতার পর বাংলাদেশের সুযোগ হয়ে যায় তাদের ১৩৯ বছর আগের স্মৃতিতে ফেরত পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের পতাকা ওড়ানোর। সে স্বপ্নপূরণের ধারেকাছেও যেতে না পারার হতাশা আছে বাংলাদেশ দলের মধ্যে। আর কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাই শহর চিনিশিল্পের জন্য ‘সুগার সিটি’ এবং শৌখিন মাছ শিকারিদের কাছে ‘ফিশিং ক্যাপিটাল’ হিসেবে পরিচিত। এই দুই ভিন্নধর্মী শহরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পেল দুই ধরনের অভিজ্ঞতা, যা তাদের ক্রিকেটীয় যাত্রার এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধরা দিল।

১৬ আগস্ট ডারউইনে বাংলাদেশ দল চতুর্থ দিনে টেস্ট জয়ের গৌরব অর্জন করেছিল। কিন্তু মাত্র ছয় দিন পর ২৩ আগস্ট ম্যাকাইয়ে তাদের অভিজ্ঞতা হলো সম্পূর্ণ বিপরীত। মিচেল স্টার্কদের বোলিং তোপে দুই দিনেই টেস্ট হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই দুই দিনে হারের পেছনে কোনো অজুহাত খুঁজে না পেলেও বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ম্যাকাইয়ের গতিময় ও বাউন্সি উইকেটকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যদিও তিনি নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতাকে অস্বীকার করেননি।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ম্যাকাইয়ের টিম হোটেলে বলেন, সিরিজ জেতার সুযোগ তৈরি হয়েছিল এবং তারা আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতেন। বাংলাদেশ দল ম্যাকাইয়ে আসার আগেই এ বছর হয়ে গেছে এর ৩৯তম আসর। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমও এবার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে, যেখানে তারা প্রশ্ন তুলেছে—ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এমন উইকেট কেন বানাল যে দুই দিনে টেস্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে? গত ১০ মাসে অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি টেস্ট দুই দিনে শেষ হয়েছে, যা নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

ম্যাকাইয়ের এই টেস্ট আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যেও প্রভাব ফেলেছে। প্রতিবছর এখানে ‘ম্যাকাই ফেস্টিভাল অব আর্টস’ হয়, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকে চাঙা করে। এবার টেস্ট ম্যাচকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা হোটেল ও পর্যটন খাতে বাড়তি ব্যবসার আশা করেছিল। কিন্তু দুই দিনে খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় ১০০ ডলারের হোটেল রুমের ভাড়া ৪০০–৫০০ ডলারে উঠে গিয়েও তা বাতিল ও ফ্লাইট পরিবর্তনের মতো ঝক্কি পোহাতে হয়েছে স্থানীয় ও সফরকারী দল উভয়কেই।

তবে স্থানীয় অস্ট্রেলিয়ানরা ডারউইনের জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ দলকে সান্ত্বনা জানাচ্ছেন। হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, এখানকার সাধারণ মানুষ এবং সাবেক ক্রিকেটাররা বাংলাদেশ দলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। ডারউইনের জয় এবং ম্যাকাইয়ের বিপর্যয়—এই দুই স্মৃতিই অস্ট্রেলিয়া সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ দলের কাছে থেকে যাবে।

শেয়ার করুন