সাত বছরেও ফেনী জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি

প্রকাশ:

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৪৪। তিন মাসের কথা বলে গঠন করা হয়েছিল ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি, যা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর ৪৬ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক শেখ ফরিদ বাহারকে আহ্বায়ক ও ফেনী পৌর বিএনপির তৎকালীন সভাপতি আলাল উদ্দিন আলালকে সদস্যসচিব করা হয়। কমিটিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সম্মানিত সদস্য এবং এম এ খালেক, গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক, প্রয়াত আলা উদ্দিন গঠন, এয়াকুব নবী ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়েছিল। ওই সময়েই সদর উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পাশাপাশি পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির কমিটিও গঠন করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফেনীতে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আসার প্রত্যাশা থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তহীনতায় এখনো সেই পুরনো আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে জেলা শাখা। এই সময়ের মধ্যে জেলা কমিটির এক যুগ্ম আহ্বায়কসহ বেশ কয়েকজন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে কমিটি ঢেলে সাজানোর কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

আন্দোলন-সংগ্রামে জেল-জুলুমের শিকার হওয়া নেতারা মনে করছেন, এখন প্রবীণ ও নবীনদের সমন্বয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করা জরুরি। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ আমলের নির্যাতিতদের মূল্যায়ন না করলে সাংগঠনিক গতিশীলতা ফিরবে না। অনেকে হাইকমান্ডের সরাসরি দিকনির্দেশনায় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক গত বছরের ২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, তিন মাসের মেয়াদের কমিটি সাত বছরেও উপজেলা ও পৌর সম্মেলন করতে পারেনি। তিনি দলের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে সম্মেলন করার কোনো পরিবেশ ছিল না। সে সময় বিএনপিকে রাজপথে দাঁড়াতেই দেওয়া হয়নি, এমনকি ফুলগাজীতে দলীয় কর্মসূচি পালনে গেলে ১৪৪ ধারা জারি করা হতো। এছাড়া ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বৈঠক করতে গেলেও হামলার শিকার হতে হতো। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী জাতীয় কাউন্সিলের আগেই এখানকার সব কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শেষ করা হবে।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু দীর্ঘ সময় ধরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়াকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাঈদ ইস্কান্দার সভাপতি ও জিয়াউদ্দিন মিস্টার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২০১৯ সালে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়।

শেয়ার করুন